মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ || ২৩ চৈত্র ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৪:১৬, ৭ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধায় অভয়াশ্রমে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব!

গাইবান্ধায় অভয়াশ্রমে চলছে মাছ নিধনের মহোৎসব!
সংগৃহীত

গাইবান্ধা: গাইবান্ধা শহরের অদূরে ঘাঘট নদীর ভেড়ামারা ব্রিজ পয়েন্টের মৎস্য অভয়াশ্রম এখন কার্যত নামেই সীমাবদ্ধ। যেখানে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের কথা, সেখানে উলটো প্রতিদিনই চলছে নির্বিচারে মাছ নিধন।

সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের টাঙানো সাইনবোর্ডে এলাকাটিকে অভয়াশ্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই সাইনবোর্ড যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অংশ। বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে মাছ শিকারের মহোৎসব।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু জেলে ও প্রভাবশালী মহল কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি, ঝাঁট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল ব্যবহার করে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে ধরছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে এখানে বিদ্যুতের কারেন্ট শক দিয়েও মাছ ধরা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অত্যন্ত ক্ষতিকর পদ্ধতি। এতে মুহূর্তেই নদীর একটি বড় অংশের মাছ মরে ভেসে ওঠে, ফলে পোনা মাছসহ জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ফাঁদ পেতে মৎস্য শিকার চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার রহমান জানান, ‘এখানে অভয়াশ্রম থাকলেও কেউ তা মানে না। প্রকাশ্যে জাল ফেলে মাছ ধরা হয়, এমনকি কারেন্ট দিয়েও মাছ মারা হয়। কিন্তু প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগের কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাছ শিকারে ব্যস্ত কয়েকজন জেলের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অভয়াশ্রমের নিয়ম মানা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ এর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন জানান, ‘অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো মাছের প্রজনন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। কিন্তু এভাবে অবাধে মাছ নিধন চলতে থাকলে স্থানীয় নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মাছ ধরার জন্য জাল রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রাশেদ জানান, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি তিনি অভায়াশ্রমটি পরিদর্শন করে সেখানে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবেন। সেইসঙ্গে অভায়াশ্রমটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’