মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ || ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট

দুই মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট
সংগৃহীত

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই কমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এসংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানির পর গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেনজীর আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও মো. সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানিতে আদালত বলেছেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘সম্পদ বিবরণী আইন’ করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এ ধরনের আইন করতে হবে।

বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কালের কণ্ঠে গত ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিল প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী বলেন, ‘এই দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দুদক স্ব-উদ্যোগে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়নি।

যে কারণে গত ৪ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ২২ এপ্রিল দুদক একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি, দুদক ১০ হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান না করে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিয়েছে। যে কারণে দুদকের অনুসন্ধানে আমরা বিচারিক তদারকি (জুডিশিয়াল সুপারভিশন) চাচ্ছি।’

এরপর বেনজীর আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও সাঈদ আহমেদ রাজা। তাঁরা বলেন, রিটে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কিন্তু দুদক এরই মধ্যে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। ফলে দুদক এখন নিষ্ক্রিয়, এটা বলার সুযোগ নেই।

অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। বিষয়টিতে আদালত তদারকি বা হস্তক্ষেপ করলে স্বাধীন অনুসন্ধান হবে না। এতে কমিশন চাপ অনুভব করতে পারে। ফলে অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া ঠিক হবে না।

অন্যায়-দুর্নীতি করে কেউ যাতে পার না পায়

শুনানির পর বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘ভারতের পাবলিক সার্ভিস হোল্ডারদের জন্য সম্পদ বিবরণী আইন আছে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় তার কত সম্পদ ছিল আর চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার সময় তার সম্পদের পরিমাণ কত, তার বিবরণী একজন সরকারি চাকরিজীবীকে দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় দেওয়া সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে অবসরে যাওয়ার সময় দেওয়া বিবরণীতে সম্পদের পার্থক্য ১০ শতাংশের বেশি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের দেশে এ রকম আইন এখন পর্যন্ত করা হয়নি। দুদকের আইন আছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এ ধরনের আইন আমাদের দেশেও করা দরকার। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এ ধরনের আইন করতে হবে। আমরা চাই, অন্যায়-দুর্নীতি করে কেউ যাতে পার না পায়।’

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আদেশ উপস্থাপন করে বলেন, সাবেক পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে এটি গুরুতর অভিযোগ। দুদক এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এরপর আদালত সব পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করে আদেশে বলেন, যেহেতু দুদক এরই মধ্যে অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করেছে, ফলে এই রিটে রুল জারি কিংবা অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার আর প্রয়োজনীয়তা নেই। অনুসন্ধান কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

সূত্র: কালের কন্ঠ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়