সোমবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ || ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

প্রকাশিত: ০৫:৪৭, ২৪ মে ২০২৩

ফরজ হজ কবে থেকে শুরু হয়েছে?

ফরজ হজ কবে থেকে শুরু হয়েছে?

ইহরাম হলো হজ ও ওমরার প্রথম রুকন। হজ ও ওমরার জন্য যারা মক্কার উদ্দেশে রওনা হন, তাদের মিকাত (নির্ধারিত স্থান) অতিক্রম করার আগে ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। ইহরাম হলো সেলাইবিহীন (পুরুষের জন্য) কাপড়। ইহরাম না পরে মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নয়। সারাবিশ্ব থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানকে শরিয়ত ‘মিকাত’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

হজ ও ওমরা সম্পাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুকন ‘ইহরাম’ বাঁধার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

ইহরামের আগে
১) ইহরাম বাঁধার আগেই গোঁফ, বগল ও নাভির নিচের ক্ষৌর কার্যাদি সম্পন্ন করা, নখ কাটা, গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাওয়া এমনকি ঋতুবর্তী মহিলাদেরও এ সময় গোসল করা মোস্তাহাব। সুগন্ধি ব্যবহার করাও মোস্তাহাব। যে ব্যক্তি হজে যেতে চায় তার শরীরের ক্ষৌর কার্য সম্পর্কে বিখ্যাত তাবেয়ি আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এর অনুমতি আছে, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১৪৯৯৮)

২) খালি শরীরে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা মোস্তাহাব। শরীরের আতর ও ঘ্রাণ যদি ইহরাম বাঁধার পর অবশিষ্ট থাকে, তবুও কোনো অসুবিধা নেই। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইহরাম গ্রহণের সময় তাঁর সর্বাধিক উত্তম সুগন্ধিটি ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার পর তার শ্মশ্রু ও শির মোবারকে তেলের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেতাম।’ (মুসলিম: ১/৩৭৮)
তবে, ইহরামের কাপড়ে আতর বা সুগন্ধি লাগাবে না। ইহরামের পরও অবশিষ্ট থাকে—এমনভাবে আতর বা সুগন্ধি লাগানো নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা-৪৮৯; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃষ্ঠা-৭০; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২২২; মানাসিক, পৃষ্ঠা-৯৮)

৩) ইহরামের উদ্দেশ্যে উত্তমভাবে গোসল করা সুন্নত। জায়েদ বিন ছাবেত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে ইহরামের জন্য পরিহিত পোশাক খুলতে এবং গোসল করতে দেখেছেন। (তিরমিজি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা-১০২)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে, তখন তার জন্য গোসল করা সুন্নত।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১৫৮৪৭)

৪) দু’রাকাত নফল নামাজ পড়া উত্তম। জাবির (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) মসজিদে সালাত আদায় করে উটের পিঠে আরোহণ করলেন এবং তাওহীদের বাণী লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক বলে ইহরাম বাঁধলেন।’ (মুসলিম: ১২১৮)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুল (স.) হজের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে রওনা হয়ে জুলহুলাইফাতে পৌঁছলেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। অতঃপর জুলহুলাইফার নিকট যখন উটনী তাকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করলেন..।’ (মুসলিম: ১/৩৭৬)

ইহরাম বাঁধবেন যেভাবে
১) নিয়ত ও তালবিয়া: ইহরামের নিয়ম হলো, মিকাত থেকে তালবিয়া পড়ার মাধ্যমে হজের নিয়ত করা। পুরুষরা ইহরামের সময় সেলাই করা কাপড় খুলে সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করবে। (বুখারি: ১৭০৭)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (স.)-কে মাথায় সিঁথি করা অবস্থায় ইহরামের তালবিয়া পাঠ করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন, এই বাক্যগুলোর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।’ (মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা-৩৭৬)

নিয়তের সময় পুরুষ হলে টুপি বা মাথার কাপড় খুলে ফেলতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, মুখমণ্ডল ও তার উপরের অংশ মাথার অন্তর্ভুক্ত। অতএব ইহরাম গ্রহণকারী থুতনি থেকে উপরের কোনো অংশ আবৃত করবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১৪৪৫২)

তামাত্তুকারী শুধু ওমরার নিয়ত করবে, ইফরাদকারী শুধু হজের নিয়ত এবং কিরানকারী হজ ও ওমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করবে। আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সঙ্গে বের হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ শুধু ওমরার উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করলেন, কেউ হজ-ওমরা দুটোর উদ্দেশ্যে এবং কেউ শুধু হজের উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করলেন। (মুসলিম: ১/২১২)

২) ইহরামের কাপড়: পুরুষদের দুইটি সাদা চাদর প্রয়োজন হবে, যা নতুনও হতে পারে কিংবা ধোয়াও হতে পারে। একটি লুঙ্গির মতো করে এবং অপরটি চাদর হিসাবে পরিধান করবে। কালো রঙের কিংবা পুরুষের জন্য অনুমোদিত এমন যেকোনো রংয়ের কাপড় পরিধান করাও জায়েজ। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (স.) ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়ালেন, তেল লাগালেন এবং লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করে মদিনা থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। তিনি জাফরানযুক্ত ব্যতীত অন্য কোনো চাদর ও লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি। (সহিহ বুখারি: ১/২০৯)

৩) জুতা- স্যান্ডেল পরার নিয়ম: পায়ের পাতার উপরের উঁচু অংশ খোলা থাকে এমন চপ্পল বা স্যান্ডেল পরা যাবে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, তোমরা লুঙ্গি, চাদর ও চপ্পল পরে ইহরাম গ্রহণ কর। যদি চপ্পল না থাকে তবে চামড়ার মোজা পায়ের গীরার নিচ পর্যন্ত কেটে তা ব্যবহার করতে পারবে। (মুসনাদে আহমদ: ৪৮৮১)

ইহরামের সময় যে দোয়া পড়বেন
১) যদি ওমরা জন্য ইহরাম হয় তাহলে বলবে- ‘লাব্বাইক ওমরাতান’ (لَبَّيْك عُمْرَةً) আর যদি ইহরাম হজের জন্য হয় তাহলে বলবে- ‘লাব্বাইক হাজ্জান’ (لَبَّيْك حَجً)

২) অতঃপর হজ বা ওমরা সহজে সম্পাদনের জন্য ইমাম কুদুরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এ দোয়াটি পড়তে বলেন- اَللَّهُمَّ اِنِّي اُرِيْدُ (العُمْرَةَ - الْحَجَّ) فَيَسِّرْهُ لِيْ وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّي উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা/হাজ্জা ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি ওমরার/হজের ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।’

৩) ইহরামের নিয়তের পরপরই উচ্চৈঃস্বরে চার ভাগে (প্রত্যেক ভাগ এক নিঃশ্বাসে) তালবিয়া পাঠ করা (৩ বার)
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ
لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ: 
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক;
লাব্বাইক, লা-শারিকা-লাকা লাব্বাইক;
ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক;
লা শারিকা লাক।’

উচ্চৈঃস্বরে চার ভাগে (প্রত্যেক ভাগ এক নিঃশ্বাসে) তিনবার তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে ইহরাম বাঁধার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। তখন থেকে ইহরামকারির জন্য হজ ও ওমরার কার্যক্রম ছাড়া স্বাভাবিক সময়ের বৈধ কাজও হারাম হয়ে যায়।

ইহরাম বাঁধার পরে
ইহরাম বাধার পর হজ বা ওমরা পালনেচ্ছুগণ বেশি বেশি তালবিয়া, দরূদ ও নিজেদের ইচ্ছামতো দোয়া পাঠ করবে। ইহরাম বাধার পর এ দোয়া পাঠ করাও সুন্নত- اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ رِضَاكَ وَ الْجَنَّةَ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ غَضَبِكَ وَ النَّارِ উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউ’জুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নার’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’

ইহরাম সম্পর্কিত কিছু ভুল-ভ্রান্তি
১) দুরাকাত নামাজের জন্য ইহরাম বিলম্বিত করা। ইহরামের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া সকল মাজহাবেই মোস্তাহাব, জরুরি কিছু নয়। পক্ষান্তরে ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা নাজায়েজ। সুতরাং ইহরামের আগে নামাজের সুযোগ পেলে তা আদায় করা চাই। সুযোগ না থাকলে নামাজের কারণে ইহরাম বাঁধা বিলম্বিত করবেন না। (সহিহ মুসলিম: ১/৩৭৬; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১২৯০০; ফতোয়া হিন্দিয়া: ১/২২৩; রদ্দুল মুখতার: ২/৪৮১-৪৮২)

২) ইহরাম বাঁধার নিয়মে ভুল করেন অনেকে। কেউ কেউ মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরে নামাজ পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়। বস্তুত এ ধারণা ভুল। শুধু নিয়ত করলে ইহরাম সম্পন্ন হয় না, বরং নিয়তের পর তালবিয়া পড়লে ইহরাম পূর্ণ হয়। (জামে তিরমিজি: ১/১০২; মোল্লা আলী কারী পৃ- ৮৯)

৩) আগেভাগে ইহরাম বাঁধাকে ঝামেলা ভাবেন কেউ কেউ। ইহরাম বাঁধার পর কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে—সেটাকে ঝামেলা ভেবে কেউ কেউ আগে থেকে ইহরাম বাঁধেন না। অথচ ইহরাম ব্যতীত মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নেই। উপমহাদেশ থেকে গমনকারী হাজিদের মিকাত হলো কারনুল-মানাজিল ও জাতু ইরক, যা অতিক্রম করেই বিমান জেদ্দায় অবতরণ করে। যদি কেউ বিনা ইহরামে মিকাত অতিক্রম করে ফেলে, তবে তার জন্য পুনরায় মিকাতে ফিরে এসে ইহরাম বেঁধে যাওয়া জরুরি। যদি তা না করেন তবে দম ওয়াজিব হবে। যেহেতু বিমানে থাকা অবস্থায় মিকাতের জায়গা নির্ধারণ করা কঠিন বা ওই সময় ঘুমিয়ে পড়া, অন্যমনস্ক থাকা ইত্যাদি হতে পারে। তাই বিমানে চড়ার আগে কিংবা বিমানে উঠেই ইহরাম বেঁধে নেওয়া উচিত। (সূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ১৫৭০২; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২২১; আলমুগনি ইবনে কুদামা: ৫/৭৬; রদ্দুল মুখতার ২/৪৭৭)

৪) সেলাইবিহীন কাপড় বা চপ্পলের জন্যও কেউ কেউ ইহরামে বিলম্ব করেন, যার কারণে মিকাত অতিক্রম করে ফেলেন। ফলে দম ওয়াজিব হয়ে যায়। অথচ মিকাত অতিক্রমের আগে সেলাইযুক্ত কাপড় অবস্থায়ও যদি ইহরাম বেঁধে নিতেন এবং গাড়ি বা বিমান থেকে অবতরণের পরেই ইহরামের কাপড় পরে নিতেন, তবে তার অন্যায়টা দম ওয়াজিব হওয়ার মতো বড় হতো না, বরং একটি পূর্ণ সদকা ফিতর আদায় করে দিলেই চলতো। (জামে তিরমিজি: ১/১৭১; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৪২; রদ্দুল মুখতার: ২/৫৪৭)

৫) যে কাপড়ে ইহরাম বাঁধা হয়েছে, সে কাপড় ইহরাম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বদলানো যাবে না বলে ভুল ধারণা আছে অনেকের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওই কাপড় নাপাক না হলেও বদলানো যাবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ১৫০১০, ১৫০১১; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ- ৯৮)

৬) তামাত্তু হজকারীর একটি সচরাচর ভুল হচ্ছে- কোনো তামাত্তুকারী প্রথমে ইহরাম বাঁধার সময় একত্রে হজ ও উমরার নিয়ত করে ফেলেন। এ ভুলটি বেশি হতে দেখা যায়। হজে-তামাত্তুর ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, প্রথমে শুধু উমরার নিয়ত করবেন। বায়তুল্লাহ পৌঁছে উমরার কাজ সেরে হালাল হবেন। তারপর আবার হজের সময় হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধবেন। (সহিহ বুখারি: ১/২১২; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৩৮; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৫৩৫-৫৩৭)

৭) ইহরামে থাকা অবস্থায় নারীদের চেহারার পর্দা করা জরুরি, কিন্তু কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা নিষেধ। এ কারণে মাসআলা না জানার কারণে পর্দানশীন মহিলাদের অনেককেই পুরো হজের সফরে ইহরাম অবস্থায় চেহারা খুলে চলাফেরা করতে দেখা যায়। অথচ এ ধারণা ঠিক নয়। চেহারায় কাপড়ের স্পর্শ ছাড়াও চেহারার পর্দা করা সম্ভব। এজন্য আজকাল ক্যাপ পাওয়া যায়, যা পরিধান করলে মুখের পর্দাও হয়ে যায়, আবার মুখে কাপড় না লাগানোর উপরও আমল হয়ে যায়। 

প্রকাশ থাকে, ক্যাপের উপর দিয়ে নেকাব পরিধান করলে বাতাসে কিংবা চলাফেরার সময় অনেক ক্ষেত্রে নেকাবের কাপড় চেহারায় লেগে যায়। এতে অনেকে বিব্রত হন যে, না জানি ইহরাম পরিপন্থী হয়ে গেল কি না। কিন্তু, মাসআলা হলো, এত অল্প সময় লাগলে কোনো অসুবিধা হয় না। তাই এই পন্থা অবলম্বন করে হলেও চেহারার পর্দা করা জরুরি। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ১৪৫৩৯, ১৪৫৪০; আবু দাউদ: ১/২৫৪; হিন্দিয়া: ১/২৩৮; রদ্দুল মুখতার: ২/৪৮৮, ৫২৭)

৮) ইহরাম অবস্থায় বায়তুল্লাহ স্পর্শ করা বড় ভুল। বায়তুল্লাহর দেয়ালে ও গিলাফে নিচ থেকে প্রায় ৭/৮ ফুট পরিমাণ চতুর্দিকেই সুগন্ধি লাগানো থাকে। তাই যেকোনো অংশে হাত লাগানোর মাধ্যমে সুগন্ধি লেগে যায়, যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। আবেগের বশবর্তী হয়ে ইহরামের অবস্থার কথা ভুলে গিয়ে বায়তুল্লাহয় হাত লাগান, আলিঙ্গন করেন কেউ কেউ। ফলে ইহরাম অবস্থায় অঙ্গ প্রত্যঙ্গে সুগন্ধি লেগে যায়। এ সময় আবেগের বশবর্তী না হয়ে হুঁশকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। একটু সতর্ক হলেই এই বড় ভুল থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। (সহিহ মুসলিম: ১/৩৭৩; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২৪; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪৮৭)

৯) ইহরামের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি। হারামে অবস্থানকারীদের অনেকে হজের ইহরাম মসজিদে হারামে গিয়ে করাকে জরুরি মনে করেন, অথচ সেখানে ইহরাম বাঁধা জরুরি নয়, উত্তম। হজের ইহরাম হোটেল বা অবস্থানের জায়গাতেও করা যাবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা: ১৫৯৩১, ১৫৯৩৩; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৩৯; রদ্দুল মুখতার: ২/৪৭৮)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হজের মতো মহান ইবাদতের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার তাওফিক দান করুন। হাজিদের যাবতীয় ভুলভ্রান্তি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমিন।

জাগ্রত জয়পুরহাট

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম